আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৫৩ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর) : আট জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জন যথাযথ কাগজপত্র জমা না দিতে পারায় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিলপ্রাপ্তরা হলেন জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম ও গণফ্রন্টের মো. আতিকুল ইসলাম।
গাজীপুর-২ (সদর-টঙ্গী) : ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে আট জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। এক শতাংশ ভোটারের বৈধ সমর্থন না থাকায় মো. আতিকুল ইসলাম, খন্দকার রুহুল আমিন, জিত বড়ুয়া ও তাপসী তন্ময় চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়। গণঅধিকার পরিষদের মাহফুজুর রহমান খানের হলফনামায় তথ্যগত ত্রুটি, জাতীয় পার্টির ইসরাফিল মিয়ার যথাযথ হলফনামা জমা না দেওয়া, শরিফুল ইসলামের হলফনামা ও অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষরের ঘাটতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের হলফনামা সঠিকভাবে দাখিল না করার কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়।
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) : দশ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনের কাগজপত্রে ত্রুটি ও নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়।
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) : ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে চার জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল্লাহর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, আমজনতা দলের মো. জাকির হোসেনের ৩০০ টাকার জুডিশিয়াল স্স্ট্যাম্পে হলফনামা না দেওয়া ও দলীয় অঙ্গীকারনামার অভাব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কাজিম উদ্দিনের ৩০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা না দেওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল হাসেমের আয়কর আপত্তি ও ভোটার স্বাক্ষরের ঘাটতির কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়।
গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ) : আট জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। মনোনয়ন ফরম সঠিকভাবে পূরণ না করতে পারায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির ডা. শফিউদ্দিন সরকার এবং প্রস্তাবকারীর ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যগত ভুলের কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গাজী রুহুল আমীন কাসেমীর মনোনয়ন বাতিল হয়।
এসব বাতিলের ফলে গাজীপুরের নির্বাচনী সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে কেবল নিয়মতান্ত্রিক ও যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, ‘প্রার্থীরা লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন, তাই তাদের তা মেনে চলতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ প্রচারণা চালালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Gazipurnews24