বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অন্তকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে বীর উজলী মডেল একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মুখে কালো মাস্ক পরে মৌন প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন। তারা দ্রুত অন্তকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও অন্ত স্কুলে যায়। টিফিনের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, অন্তের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না এবং তার কোনো অভিযোগ বা বিশেষ কোনো আবদারের কথাও তারা জানতেন না। দিনের বেলায় একটি শিক্ষার্থী স্কুল থেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্তের বড় ভাই মঈন খান একই প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভাইকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি প্রশাসন ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অন্তের বাবা সোহাগ খান বলেন, আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, আমরা কিছুই জানি না। প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার সন্তানকে খুঁজে বের করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।
মা মিনারা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, প্রতিদিনের মতো অন্ত স্কুলে যেত। তার কোনো অভিযোগ ছিল না, কোনো আবদারও ছিল না। কারা, কেন আমার বুকের ধনকে নিখোঁজ করেছে, আমি কিছুই জানি না। আমার সন্তান যদি কারও কোনো ক্ষতি করে থাকে, তাহলে আমাদের জানাত। কেন তাকে এভাবে নিখোঁজ করা হলো?
তিনি আরও বলেন, আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার অন্তকে খুঁজে বের করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠান পরিচালক আশরাফুল আলম আসাদ বলেন, নিখোঁজ ছাত্র অন্ত অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো অভিযোগ আসেনি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আমরা ঘটনাটি জানতে পারি। বিষয়টি জানার পর আমরা খুবই মর্মাহত হই। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আমরাও বিভিন্নভাবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ছেলেটিকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মানববন্ধনে কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, স্কুলশিক্ষার্থী তাফসিরুল ইসলাম অন্ত তিন দিন ধরে নিখোঁজ। এখন পর্যন্ত প্রশাসন তার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। তাহলে কি তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, নাকি এখনো বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না, এ প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনকেই দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একজন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর অনুসন্ধান প্রয়োজন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অন্তকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় স্কুল থেকে একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দিনেও তার সন্ধান না মেলায় প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিখোঁজের পর ভবনের ছাদ থেকে রক্তমাখা পোশাক ও আইডি কার্ড উদ্ধারের বিষয়টি দ্রুত ও গভীর তদন্তের দাবি রাখে বলে মনে করছেন তারা।
তবে পুলিশের দাবি, তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারা আসপাশের সকল সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি দিয়েছেন, কিন্তু অন্তের কোন সন্ধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, ভবনের ছাদে পাওয়া রক্তমাখা শার্ট, প্যান্ট ও আইডি কার্ড ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন হাতে এলে কোনো ক্লু পাওয়া যায় কি না, তা জানা যাবে। অন্তের সন্ধানে স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্যগত সহযোগিতাও কামনা করেছেন ওসি।
নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোন সন্ধান না মেলায় স্থানীয়দের মধ্যে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর অন্ত কোথায় গেল? তার নিখোঁজের সঙ্গে ছাদে পাওয়া রক্তমাখা পোশাকের কোনো যোগসূত্র আছে কি না? থাকলে সেই সূত্র ধরে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে? ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো কী বলছে? আর একজন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কী ধরনের অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর এখনো সামনে আসেনি।
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে অন্তের পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর উৎকণ্ঠা। তাদের দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে নিখোঁজের প্রতিটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখে দ্রুত অন্তকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হোক।
গাজীপুর নিউজ গাজীপুর নিউজ, gazipur news, gazipur songbad, gazipur khabar।