দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্ড করে দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে—টাকা ছাড়াও একজনের বাড়ি থেকে একটি বড় রাজহাঁস পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আবুল কাসেম, তিনি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং স্থানীয়ভাবে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল পদে আছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডব্লিউবি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন।
১৯ নভেম্বর বিলেরপাড়া গ্রামের জাহিদ হাসান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন—চার মাস আগে তাঁর মা ভিডব্লিউবি কার্ডের জন্য আবেদন করতে গেলে ইউপি সদস্য ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২ হাজার টাকা নিলেও বাকি টাকা নিতে ইউপি সদস্যের স্ত্রী তাঁদের বাড়ি থেকে একটি বড় রাজহাঁস নিয়ে যান।
এর আগে ১০ নভেম্বর নওদাপাড়ার বাসিন্দা বুলি বিবি-ও একটি অভিযোগ দেন। তিনি জানান—মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ডের জন্য দুই হাজার টাকা নেওয়া হলেও চার মাসেও কার্ড দেওয়া হয়নি। নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কাওছার রহমান বলেন,
“নাগরিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমরা মোট চারটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া আরও ২০–৩০ জন মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০ নভেম্বর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত সদস্যের দাবি
ইউপি সদস্য আবুল কাসেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকার বিষয়টি আমি জানতাম না, পরে শুনেছি। আর আমার বাড়িতে ৭০–৮০টি হাঁস আছে—আমি কেন অন্যের বাড়ি থেকে রাজহাঁস নেব? চেয়ারম্যান রাজনৈতিক কারণে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে।
Gazipurnews24